বিশেষ রাবার ও অ্যাপসে ফিঙ্গার প্রিন্ট চুরি!
সিম কোম্পানিতে চাকরি করে বিশেষ রাবারে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাপস তৈরি করে গ্রাহকের অজান্তে ৮০০ সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে সিম অ্যাক্টিভেট এবং অ্যাক্টিভ সিম দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছিলোএকটি চক্র। অষ্টম থেকে এইচএসসি পাশ এই চক্রের সদস্যরা প্রযুক্তিগত বিদ্যায় পারদর্শীতা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি এবং অন্যের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিম অ্যাক্টিভ করে অপরাধীদের কাছে ২ হাজারে বিক্রি করতো। এভাবেই অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার হাটও তৈরি করেছিল চক্রের সদস্যরা। গত কয়েক বছর ধরে এসব কর্মকাণ্ড করে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরীসহ কুড়িগ্রাম ও রংপুর থেকে এ চক্রের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
গ্রেফতার আটজন হলো, মো. মাসুদ (২২), মেহেদী হাসান (২৪), আল আমিন মিয়া (২৬), আরাফাত রহমান (২৩), নুর আলম (২৪), ইমন হোসেন (২৫), সোহেল রানা (৩৬) ও মো. শাকিল (২৫)। তাদের মধ্যে সোহেল রানা ও মো. শাকিল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাকিরা এইচএসসি পাস। পেশায় সবাই চাকরিজীবী
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল অ্যাপস, ৮০০টি বিশেষ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্টের অনুলিপি, বিভিন্ন ব্যক্তির বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা ১১০টি অ্যাক্টিভ সিম, ২টি কম্পিউটার, ৫টি মোবাইল ফোন, ৩টি ফিঙ্গার স্ক্যানার, একটি গ্লুগান জিটি-১০ মেশিন ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
খবরে প্রকাশ, গ্রেফতার মো. মাসুদ এইচএসসি পাস করে বাংলালিংকে এসআর পদে চাকরি নেন। প্রযুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী হওয়ায় বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন, রবি, বাংলালিংক এবং বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ আ্যপসের এপিআই সংগ্রহ করে অপর সহযোগী সফটওয়্যার ডেভেলপার মেহেদী হাসানের কাছে সরবরাহ করতেন। তাকে দিয়ে টিকটক প্রো যা ডিজিটাল প্রো সার্ভিস নামে পরিচিত একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করা হয়। এছাড়া মাসুদ তার কাছে সিম কেনা ও রিপ্লেস করতে আসা ব্যক্তিদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা বায়োমেট্রিক তথ্য বিশেষ কৌশলে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে রেখে দিতেন। ওই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে সিম অ্যাক্টিভ করে অপরাধী চক্রের কাছে প্রতিটি সিম দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। মাসুদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের কাজে বাংলালিংকে এসআর পদে চাকরি করা ইমন হোসেন, সোহেল রানা ও শাকিল সহযোগিতা করতেন। এছাড়াও গ্রেফতার নুর আলম টাকার বিনিময়ে আল আমিন মিয়া ও মো. আরাফাত রহমানের কাছ থেকে জিপি বায়োমেট্রিক কিনে এনআইডি সার্ভার সংগ্রহ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। আর আল আমিন মিয়া ও আরাফাত রমজান দুই ভাই। তারা পীরগঞ্জে জিপি কাস্টমার কেয়ারে চাকরি করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে তাদের কাছে জিপি নম্বরের বায়োমেট্রিক তথ্য পাওয়া যায় এবং এসব তথ্য টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধ চক্রের কাছে বিক্রি করেন। একইভাবে মাসুদ, ইমন হোসেন, সোহেল রানা ও শাকিল এমএন টেডার্স (বাংলালিংক হাউজ) এ এসআর পদে চাকরি করতেন। আসামিরা সিম রিপ্লেস ও কিনতে আসা ব্যক্তিদের হাত পরিষ্কার করার নামে বিশেষ একটি রাবারের সাদৃশ্য বস্তুতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে গ্লু-গানের সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে সংরক্ষণে রাখতেন। পরে রাবারের সংরক্ষণ করা বিভিন্ন ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ওই ব্যক্তিদের অজান্তে এনআইডির বিপরীতে সিম অ্যাক্টিভ করে বিভিন্ন অপরাধী-প্রতারকদের কাছে বেশি দামে বিক্রয় করেন। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির ৮০০ আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া গেছে।
ডিবি জানায়, গ্রেফতার মেহেদী প্রযুক্তিবিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী। এসএসসি পাস করে অনলাইনের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রসেসিং শেখেন। যেকোনো অ্যাপস ও সফটওয়্যার তৈরি করতে সক্ষম মেহেদী। টিকটক প্রো নামের একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন অপরাধীর কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।







